তেলের সংকট হতে পারে এমন খবরে বিক্রি বেড়েছে দ্বিগুণ
আপলোড সময় :
০৭-০৩-২০২৬ ০৩:০৯:১৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-০৩-২০২৬ ০৩:০৯:১৯ অপরাহ্ন
তেলের সংকট হতে পারে এমন খবরে বিক্রি বেড়েছে দ্বিগুণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় দেশের বিভিন্ন এলাকার মতো রাজবাড়ী জেলায় পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কোথাও কোথাও তেল বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে—এমন খবর ও গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। এতে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার পাংশা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় অর্ধশত মোটরসাইকেলের দীর্ঘস্বারী। কেউ ১০ মিনিট আবার কেউ আধাঘন্টা অপেক্ষা করছে ২ শ টাকার তেল নিতে।
অন্যদিকে ফিলিং স্টেশন গুলো খোলাবাজারে তেল বিক্রি করছে কি না সেটা মনিটরিং করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দীর্ঘ ১ ঘন্টা পাংশা ফিলিং স্টেশন ও পাশের সুগন্ধি ফিলিং স্টেশন এলাকায় এই প্রতিবেদক অপেক্ষা করে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকদের গতিবিধির উপর।সময় ১০ টার ৪৫ মিনিট পাংশা ফিলিং স্টেশন থেকে সাদা রংয়ের এপাচি আরটিআর মোটরসাইকেলে ২শ টাকার পেট্রোল নিয়ে যায় চালক। সেখান থেকে সামনের সুগন্ধি ফিলিং স্টেশন থেকেও নেন আরও ২ শ টাকার পেট্রোল। কিছুক্ষণ অপেক্ষা তারপর আবারও ১১ টা ১০ মিনিট নাগাদ পাংশা ফিলিং স্টেশন থেকে ২ শ টাকার পেট্রোল নিয়ে শহরের দিকে চলে যায়।
পাংশা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল মমিন বলেন, আমরা দুইদিন আগেও যে যতটুকু তেল চেয়েছে দিয়েছি। সরকার একটি নির্দেশনা দিয়েছে মোটরসাইকেল প্রতি ২শ টাকার বেশি তেলে না দেওয়ার। আমরা সেটা অনুসরণ করে গতকাল থেকে তেল বিক্রি করছি।
তিনি আরও বলেন, আগে আমাদের এই ফিলিং স্টেশনে দিনে আনুমানিক ৩ হাজার লিটার পেট্রোল, অকটেন বিক্রি হতো। গত কাল থেকে সেটা বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার লিটারের। অনেকেই ২ শ টাকার করে তেল নিয়ে বাড়িতে মজুদ করছে।
তিনি আরও বলেন, ডিপো থেকে আমাদের আগের থেকে পেট্রোল,অকটেন ও ডিজেল কিছুটা কম দেওয়া হচ্ছে। তবে চাহিদা বেড়েছে দ্বিগুণ। এভাবে চলতে থাকলে সমস্যায় পড়ে যেতে হবে।
এ বিষয়ে পাংশা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) সাদ আহম্মেদ বলেন, ইতিমধ্যে সরকার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে কোন গাড়ি কতটুকু তেল পাবে। ফিলিং স্টেশন গুলো সেই নির্দেশনা মানছে কিনা সেটা আমরা তদারকি করছি। সেই সাথে অতিরিক্ত দামে ফিলিং স্টেশন গুলো যাতে খোলাবাজারে তেল বিক্রি করতে না পারে সেটিও দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল ব্যবহারের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : NewsUpload
কমেন্ট বক্স